বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লকডাউনে শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী বুধবার থেকে কঠোর লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। তবে বাধ সাধেন...

আরও পড়ুন

লকডাউনে কারখানা বন্ধ হলে ক্রয়াদেশ মিলবে না, বলছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনার সংক্রমণ রোধে আগামী বুধবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার...

আরও পড়ুন

মূল্য পরিশোধ করছে না আমদানিকারক

বাংলাদেশী পোশাক পড়ে রয়েছে ইতালির ওয়্যারহাউজে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশী পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ দিয়েছিল ইতালিভিত্তিক এক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। ক্রয়াদেশ অনুযায়ী পণ্য রফতানি করলেও এখন পর্যন্ত রফতানিকারক কারখানাকে মূল্য পরিশোধ করেনি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো বর্তমানে ইতালির লিবোর্ন বন্দরে একটি ওয়্যারহাউজে পড়ে রয়েছে। এদিকে দাম পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক থেকে আর্থিক সুবিধাও পাচ্ছে না রফতানিকারক পোশাক কারখানা। গত বছরের ১ জুন খোলা এক ঋণপত্রের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭ হাজার ৯২০ পিস শার্ট ও প্যান্টের ক্রয়াদেশ পায় বাংলাদেশের দেশওয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেড। ইতালিভিত্তিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ফ্যাশন ইতালিয়ান স্টাইলের দেয়া ওই ক্রয়াদেশ অনুযায়ী পণ্য রফতানি হয় গত বছরের অক্টোবরে, যার মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৬০ ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি)। পণ্যগুলো গত ৯ ডিসেম্বর থেকে ইতালির লিবোর্ন বন্দরের ওয়্যারহাউজেই পড়ে রয়েছে। এখনো এর মূল্য পরিশোধ করেনি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। ফ্যাশন ইতালিয়ান স্টাইলের স্থানীয় এজেন্ট এ্যাজমা ফ্যাশনসের স্বত্বাধিকারী ফরিদ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ক্রয়াদেশটি পায় দেশওয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেড। ব্যাংক লেউমি ইউএসএ নামের মার্কিন একটি ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানীকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধ হওয়ার কথা ছিল। সময়মতো পণ্য পাঠানো হলেও এর মূল্য পরিশোধ নিয়ে ক্রেতা, ক্রেতার ব্যাংক ও স্থানীয় এজেন্টসহ কোনো পক্ষই সাড়া দিচ্ছে না। অন্যদিকে রফতানি চালানের পণ্য এখন ইতালীয় বন্দরে ফরোয়ার্ডারের ওয়্যারহাউজেই পড়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে দেশওয়ান অ্যাপারেলসের কর্ণধার মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, রফতানি হওয়া পণ্যের দাম পরিশোধসংক্রান্ত কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ নিয়ে যথাযথ উত্তর পাওয়া যায় না। ইতালির লিবোর্ন বন্দরে সংশ্লিষ্ট ফরোয়ার্ডার বিল লজিস্টিকস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওয়্যারহাউজে পড়ে থাকা পণ্যের দাম পরিশোধ না হওয়ায় আমাদের ব্যাংকও চাহিদামতো আর্থিক সুবিধা দিতে পারছে না। ফলে কারখানা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মূল্য পরিশোধ নিয়ে উদ্ভূত এ সংকট নিষ্পত্তির জন্য সম্প্রতি দেশওয়ান অ্যাপারেলস বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, এখনো কোনো সমাধান হয়নি, কিন্তু দেশওয়ানের পেমেন্ট-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে এ ধরনের ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এর আগেও দাম পরিশোধ না হওয়া-সংক্রান্ত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে দেশওয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ইতালীয় ক্রেতা ক্রয়াদেশটি পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ মার্কিন একটি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়েছে। সে অর্থায়নকারী আবার যুক্তরাষ্ট্রেরই ব্যাংক লেউমির মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রেতার স্থানীয় এজেন্টের ব্যাংকে ঋণপত্র পাঠিয়েছে। স্থানীয় এজেন্টের ব্যাংক হলো ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংক এশিয়ায় আসা ঋণপত্রটি আমরা পেয়েছি আমাদের অর্থায়নকারী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এখন অর্থ পরিশোধ না করায় আমরা বিপদে পড়ে গিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে এমন দুটি ঘটনার কারণে ইসলামী ব্যাংকও এখন আমাদের অর্থায়নে খুব একটা আস্থা পাচ্ছে না। আজও ব্যাংকের ম্যানেজার আমাদের ডেকেছিলেন। কীভাবে এ পরিস্থিতির সমাধান হবে বুঝতে পারছি না। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, রফতানি করার পর ক্রেতাপক্ষ থেকে দাম অপরিশোধিত থাকার মতো বিরোধপূর্ণ ঘটনা স্বাভাবিক সময়েও ঘটে। তবে কভিড-১৯-এর প্রভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বেশি। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই বড় গন্তব্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই দাম অপরিশোধিত থাকার একাধিক ঘটনা জানা গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কভিডের প্রভাবে মার্কিন পোশাক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান কোল্ডওয়াটার ক্রিক (সিডব্লিউসি) ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। সিডব্লিউসির ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার ধারাবাহিকতায় পণ্য রফতানি করেও দাম পায়নি বাংলাদেশে স্থাপিত পোশাক কারখানা ক্রয়ডন কওলুন ডিজাইনস লিমিটেড (সিকেডিএল)। এ ঘটনা সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের দাম নিয়ে বিরোধ ঘটেই থাকে। কিন্তু কভিড প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনার প্রভাব অনেক বেশি মাত্রায় নেতিবাচক। কারণ এমনিতেই কারখানায় ক্রয়াদেশ কম। এর মধ্যে আবার রফতানি করা পণ্যের দাম না পাওয়ায় রফতানিকারকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে বেশি। কারণ ধারাবাহিক ক্রয়াদেশ না থাকায় ব্যাংকও আর্থিক সুবিধা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। কভিড-১৯-এর প্রভাবে ক্রেতাদের ক্রয়চর্চার ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ গোটা এশিয়ার পোশাক উৎপাদনকারীরা জোটবদ্ধ হয়েছেন। স্টার নেটওয়ার্ক শীর্ষক ওই জোট গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও দিয়েছে। স্টার নেটওয়ার্কের মুখপাত্র বিজিএমইএ পরিচালক মিরান আলী বলেন, এশিয়ার উৎপাদনকারী ও সংগঠন হিসেবে আমরা একযোগে এগিয়ে অভিন্ন অবস্থানে সম্মত হতে চাই। এ অভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে আমরা একক ও সামষ্টিকভাবে ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সঙ্গে ক্রয়চর্চা উন্নয়নে আলোচনা করতে পারব। শুরু থেকেই দেশের তৈরি পোশাক খাতে একের পর এক আঘাত হেনেছে মহামারী। করোনার প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত শুরুতে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটে পড়ে। দেশে তৈরি পোশাক খাতের ওভেন পণ্যের আনুমানিক ৬০ শতাংশ কাপড় আমদানি হয় চীন থেকে। আর নিট পণ্যের কাঁচামাল আমদানি হয় ১৫-২০ শতাংশ। নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতির শুরুর দিকে চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। পরবর্তী সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও রফতানি গন্তব্যগুলোয় মহামারীর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে চাহিদার সংকট তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত করতে থাকে একের পর এক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। সূত্রমতে, কভিডের প্রথম ঢেউয়ে ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করা ক্রেতাদের মধ্যে ছিল প্রাইমার্কের মতো বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানও। আয়ারল্যান্ডভিত্তিক প্রাইমার্কের পাশাপাশি ছোট-মাঝারি-বড় সব ধরনের ক্রেতাই ওই সময় ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে আবার এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, কিয়াবি, টার্গেট, পিভিএইচসহ আরো কিছু ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান স্থগিত হয়ে পড়া ক্রয়াদেশ পুনরায় বহাল করে। বর্তমানে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ সরবরাহের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু করেছে। বিজিএমইএর তথ্য বলছে, এপ্রিল শেষে ১ হাজার ১৫০ কারখানার মোট ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এসব ক্রয়াদেশের আওতায় ছিল ৯৮ কোটি ২০ লাখ পিস পোশাক। অন্যদিকে এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লাখ ৮০ হাজার। এখন কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে আবারো ক্রয়াদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে এরই মধ্যে ক্রয়াদেশ ৩০ শতাংশ কমেছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএ। এ পরিস্থিতিতে যে ক্রয়াদেশগুলো আসছে, তার বেশির ভাগই ঋণপত্র ছাড়া। এছাড়া পশ্চিমা খুচরা বাজারের অনিশ্চয়তায় পণ্যের দাম পরিশোধ নিয়েও ঝুঁকি বাড়ছে। এরই মধ্যে উপকরণ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্যের মূল্য হিসেবে ক্রেতাদের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের পাওনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পাওনা আদায় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন রফতানিকারকরা।

আরও পড়ুন

দেশের পোশাক খাতে বড়রা আরো বড় হচ্ছে

দেশের পোশাক খাতের অন্যতম বড় গ্রুপ স্নোটেক্স। বছরে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করছে এ গ্রুপ। কভিড-১৯ সংক্রমণ এড়াতে চলতি বছর প্রায় দুই মাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে হলেও প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে উৎপাদন লাইন বৃদ্ধি করেছে। এজন্য অদূর ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ জনবলও নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। মালিকপক্ষ বলছে, উৎপাদন বন্ধ না রাখলে চলতি বছর শেষে অবধারিতভাবেই রফতানি বাড়ত স্নোটেক্সের। চলতি বছর শেষে রফতানি টার্নওভার হয়তো বাড়বে না, কিন্তু গত বছরের মতো এবারো ২৫ কোটি ডলারের রফতানি হওয়ার আশা রয়েছে। গত অক্টোবরে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয় দেশের অন্যতম বড় পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের বিজ্ঞাপনে নতুন কারখানা ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছিল। যোগাযোগের জন্য যে নম্বর দেয়া হয়েছিল সেখানে ফোন করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই নতুন কারখানা কিনতে হচ্ছে তাদের। বৈশ্বিক কভিড-১৯-এর প্রভাবে দেশের পোশাক খাতের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, এটা একটা বাস্তবতা। কিন্তু এর পাশাপাশি এটাও বাস্তবতা যে এ মহামারীর প্রভাবে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ক্রয়চর্চায় পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেতাদের ক্রয় মানসিকতার প্রভাবে তুলনামূলক ছোট কারখানাগুলোর উৎপাদন অনেকাংশে কমেছে। ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে বড় পোশাক কারখানার ব্যবসা। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিসংখ্যানেও বড় কারখানার ব্যবসা শক্তিশালী হওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংগঠনের সক্রিয় ১ হাজার ৩৩৪ সদস্য কারখানা মোট ১ হাজার ৯৩২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। যার ১ হাজার ২২৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের রফতানি করেছে বৃহৎ ৩৫১ কারখানা। এ হিসাবে মোট রফতানির ৬৩ শতাংশই করেছে বৃহৎ কারখানাগুলো। বাকি ৩৭ শতাংশ রফতানি করেছে মাঝারি ও ছোট ৯৮৩ কারখানা। মাত্র ১৫ শতাংশ রফতানি করেছে ছোট ৬৪২ কারখানা। জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক  বলেন, মোট রফতানির ৫০ শতাংশের বেশি অবদান রাখা কারখানার সংখ্যা এখন চারশরও নিচে। ছোট কারখানা এখন আগের চেয়ে অনেক কম। ক্রেতারা তাদের সরবরাহকারী ভিত্তি কনসোলিডেট করছে। বড় পরিমাণ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়ার সক্ষমতা আছে এমন কমপ্লায়েন্ট কারখানাগুলোর দিকে তাদের মনোযোগ। কনসোলিডেশনটা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। বিজিএমইএর হিসাবে ২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন এমন ৩৫১ কারখানা মোট রফতানির ৬৩ শতাংশ করেছে গত অর্থবছরে। এর মধ্যে একক ইউনিট ভিত্তিতে শীর্ষ ২০ পোশাক রফতানিকারক কারখানার নাম হাতে পেয়েছে  এ কারখানাগুলো গত অর্থবছরে ন্যূনতম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩ কোটি ডলারের রফতানি করেছে। শীর্ষ এ ২০ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কভিড-১৯-এর প্রভাবে বড় কারখানাগুলোর ব্যবসার ভিত আরো শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএর শীর্ষ ২০ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকার শুরুতেই আছে ইউনিভার্সাল জিনস লিমিটেড। বছরে ১০ থেকে ২৩ কোটি ডলারের রফতানি করা প্রতিষ্ঠানটির মূল গ্রুপ প্যাসিফিক জিনস। ১৯৮৪ সালে যাত্রা করে বর্তমানে ৩০ হাজার শ্রমিকের এ গ্রুপ বছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে। গ্রুপের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কভিডের প্রভাবে ব্যবসার ভিত শক্তিশালী হওয়ার বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন তারা। প্যাসিফিক জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভির  বলেন, লোয়ার ক্যাটাগরির বা ছোট কারখানাগুলোর ক্রয়াদেশ কমছে কিছুটা কভিডের কারণে। এ অবস্থায় বড়দের সিকিউরিটির জায়গাটি নিশ্চিতভাবেই বেটার। বড়রা প্রকৃত অর্থে বেটার পজিশনে থাকবে। শীর্ষ ২০ পোশাক রফতানিকারক কারখানার মধ্যে দশম অবস্থানে রয়েছে দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড বা ডিবিএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফ্লেমিঙ্গো ফ্যাশনস লিমিটেড। বস্ত্র, পোশাক, সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ব্যবসা থাকা ডিবিএল গ্রুপে কর্মী সংখ্যা ৩৮ হাজারেরও বেশি, বার্ষিক টার্নওভার ৬০ কোটি ডলার। এ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাও বড় কারখানার ভিত কভিডের প্রভাবে শক্তিশালী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ফ্লেমিঙ্গো ফ্যাশনস-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বড় ক্রেতাদের তিন ধরনের সরবরাহকারী কারখানা আছে। এগুলো হলো প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার। প্লাটিনাম কারখানাগুলো নির্ধারণে সাতটি বিষয়ের ওপর জোর দেন ক্রেতারা। এ বিষয়গুলোর মধ্যে আছে কমপ্লায়েন্স, প্রাইস ও ক্যাপাসিটি, ডকুমেন্টেশন। এ ধরনের সাতটি বিষয়ের প্রতিটিতে প্রত্যাশিত সর্বোচ্চ নম্বর পেলে সেই কারখানাগুলোকে প্লাটিনাম বলা হচ্ছে। এর পরের ধাপকে গোল্ড ও সর্বশেষ ধাপটিকে সিলভার বলা হচ্ছে। সিলভার কারখানাগুলোকে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দেয়ার বিষয়ে ‘না’ করে দিচ্ছে। সিলভার কারখানাগুলোর সমস্যা হলো তাদের পূর্ণাঙ্গ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ নেই। ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এমএ রহিম বলেন, সিলভার কারখানাগুলোকে ক্রেতারা এখন ‘না’ করে দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। ক্রেতারা মজুদ পণ্য শেষ করতে চাচ্ছে। ক্রিসমাস সেলস ভালো হয়নি। ক্রেতারা সিলভার কারখানা থেকে কম মূল্যে পোশাক কিনতে পারত। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্রয়াদেশ কম বা বেশি যা-ই দিচ্ছে তা দিচ্ছে প্লাটিনাম ও গোল্ড কারখানাগুলোকে। সিলভার কারখানায় যে ক্রয়াদেশগুলো দিত তা এখন প্লাটিনাম ও গোল্ড কারখানাগুলোকে দিচ্ছে। এমন কৌশলই নিচ্ছে ক্রেতারা। ছোটদের ছেড়ে দিচ্ছে। নিশ্চিতভাবেই কনসোলিডেশন হচ্ছে। গত অর্থবছরে একক ইউনিটভিত্তিক শীর্ষ ২০ পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাদশতম প্রতিষ্ঠানটি হলো স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড। স্নোটেক্স গ্রুপের আওতাভুক্ত স্নোটেক্স আউটারওয়্যারে কাজ করেন সাড়ে সাত হাজারেও বেশি কর্মী। স্নোটেক্স গ্রুপের মোট কর্মী ১৬ হাজার। গ্রুপের বার্ষিক রফতানি টার্নওভার ২৫ কোটি ডলার। স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম খালেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ২০১৯-এর চেয়ে ২০২০ সালে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদের উৎপাদন সক্ষমতা এতই কম যে ৫০ বা ১০০টা বন্ধ হলেও তা আদতে বড় সংখ্যা নয়। বড়দের মধ্যে ২০১৯ সালে যারা কারখানা চালু করেছেন তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে, যেমন আমাদের বেড়েছে। গত ছয় মাসে দুই-তিন হাজার নিয়োগ দিতে হয়েছে। আগামী ছয় মাসে হয়তো আরো দুই-তিন হাজার কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। যারা সক্ষমতা বাড়িয়েছে তারা বাড়তি কিছু ক্রয়াদেশ যে পায়নি তা নয়, এমন তথ্য উল্লেখ করে এসএম খালেদ বলেন, যারা পরিবেশবান্ধব, সক্ষমতা বেশি, নতুন বিনিয়োগ করেছেন তারা যে খুব সমস্যায় পড়েছেন তেমনটা বলা যাবে না। আবার একদম সমস্যা হয়নি, তাও বলা যায় না। আমাদের ক্ষেত্রেই কভিডের প্রভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে না হলে গত বছরের মতো এ বছরও ২৫ কোটি ডলারের রফতানি টার্নওভার থাকবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন

“তাজরীনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা চাইল আইবিসি “

আসাদুজ্জামান চৌধুরী:আজ তাজরিন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পেরোলো। বিভিন্ন উদ্যোগে পালন করা হয়েছে শোকাবহ এই দিবসটি। ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল...

আরও পড়ুন